খানখানাপুর তমিজুদ্দিন খান বালিকা বিদ্যালয়ের ইতিহাস
বৃটিশ আমলে প্রয়াত বাবু মনিন্দ্র কুমার কুণ্ডুর বাড়ির দক্ষিণাংশে পূর্বপুরুষের পারিবারিক সম্পত্তির ওপর প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে এই স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার প্রকৃত সন তারিখ অজানা। প্রতিষ্ঠার সময় এটির নাম ছিল দীনবন্ধু প্রাথমিক বিদ্যালয়। দীনবন্ধু বাবু মনিন্দ্র বাবুর জ্যাঠা (বড় কাকা) ছিলেন। নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে এটিই ছিল গ্রামের প্রথম এবং একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯৬২ সালে স্কুলটি জুনিয়র হাই স্কুল হিসাবে উন্নীত হয় এবং খানখানাপুরের কৃতি সন্তান তদানীন্তন পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের স্পীকার মরহুম তমিজুদ্দিন খান এর নামানুসারে স্কুলটির নামকরণ করা হয়। জুনিয়র হাই স্কুলে উত্তরনের পর্যায়ে মনীন্দ্র বাবুদের জমি স্কুলের নামে কিনে নেয়া হয়। হাই স্কুল না হওয়ায় সে সময়ে স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের রাজবাড়ী সরকারি গার্লস স্কুলের মাধ্যমে পরীক্ষা দিতে হতো। ১৯৬৯ সালে স্কুলটি হাই স্কুল হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। পরবর্তীতে স্কুলটি এসএসসি এবং জেএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র (ভেন্যু) হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। মেয়েদের শিক্ষাবিস্তারের ক্ষেত্রে স্কুলটি জন্মলগ্ন থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলছে। প্রাথমিক পর্যায়ে স্কুলটির প্রতিষ্ঠা এবং তৎপরবর্তী বিভিন্ন সময়ে যে সকল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অবদান রেখেছেন তাদের মধ্যে বাবু মনিন্দ্র কুমার কুণ্ডু, বাবু যুগল কুমার কুণ্ডু, বাবু সুবল কুমার কুন্ডু, বাবু রোহানী কুমার কুণ্ডু, বাবু রাখাল কুমার কুণ্ডু প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য।
প্রাথমিক প্রর্যায়ে স্কুলের জমির পরিমাণ ছিল ৫৫ শতাংশ, বর্তমানে জমির পরিমাণ ৩ একর ৫৫ শতাংশ। এর মধ্যে রয়েছে গোয়ালন্দ মোড় সংলগ্ন স্কুলের নিজস্ব ১ একর জায়গার ওপর একটি মেহগনি বাগান; অন্যত্র মোড় সংলগ্ন ১৪ শতাংশের ওপর আরেকটি মেহগনি বাগান। এছাড়া স্কুলের পশ্চিমে রেললাইন সংলগ্ন ১০ শতাংশ ওপর মেহগনি বাগান ও একটি পুকুর সহ ৯১ শতাংশের একটি জমি স্কুলের নিজস্ব মালিকানায় আছে।